কম্পিউটার কী ? আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে ?

কম্পিউটার কী ? আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে ?

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স জিনিস হচ্ছে কম্পিউটার। ডিজিটাল পৃথিবী তৈরির পিছনে কম্পিউটারের অবদান অনেক। কম্পিউটার সম্পর্কে জানেনা অথবা কম্পিউটার দেখিনি এমন মানুষ পৃথিবীতে নেই বললেই চলে। 

তাহলে বুঝতে পারছেন কম্পিউটার কতটা জনপ্রিয় একটি ইলেকট্রনিক জিনিস। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি পড়লে আপনি জানতে পারবেন কম্পিউটার কি। এবং কম্পিউটারের জনক কে। তার সাথে জানতে পারবেন কম্পিউটার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু তথ্য।

আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে

কম্পিউটার কি?

কম্পিউটার হচ্ছে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস। কম্পিউটার বহু কাছে ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটার সাধারণত তিনটি কাজ করে থাকে কম্পিউটার বিভিন্ন ডাটা ইনপুট করে থাকে। 

তারপর কম্পিউটার ইনপুট করা ডাটাগুলো প্রসেস করে থাকে। তারপর সে ডাটাগুলো প্রসেস করার পর আমাদের সামনে প্রদর্শন করে থাকে তখন আমরা সেটা গুলো দেখতে চাই।

কম্পিউটার এর নামকরণ হয় কিভাবে?

কম্পিউটারে শব্দটি প্রথমত যখন কম্পিউটার আবিষ্কার করা হয় তখন তার নাম কম্পিউটার ছিল না।তখন এর নাম ছিল কম্পিউট যা একটি ল্যাটিন শব্দ। এই ল্যাটিন শব্দ কম্পিউট এর অর্থ হচ্ছে হিসাব বা গণনা। 

পরে এই ল্যাটিন শব্দ কম্পিউট থেকে কম্পিউটার নামকরণ করা হয় আর এই শব্দের অর্থ হচ্ছে হিসাব বা গণনাকারী যন্ত্র। প্রথমত কম্পিউটার তৈরি করা হয় কেবলমাত্র বড় বড় হিসাব করার জন্য। কিন্তু আস্তে আস্তে সময়ের পরিবর্তনে কম্পিউটার এখন বহু কাজে ব্যবহার করা হয়। 

ডিজিটাল কম্পিউটার কি?

বর্তমানে আমরা যে কম্পিউটার গুলো ব্যবহার করি সে কম্পিউটার গুলো হচ্ছে ডিজিটাল কম্পিউটার। এই ডিজিটাল শব্দটির উদ্ভাবন হয় ডিজিট শব্দ থেকে আর ডিজিট শব্দের অর্থ হচ্ছে সংখ্যা। 

সাধারণত এই ডিজিটাল কম্পিউটার ডাটা প্রক্রিয়াকরণ ও বিভিন্ন হিসাব নিকাশের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারণত ডিজিটাল কম্পিউটারের বর্ণ ও অংক প্রদর্শিত হয় কম্পিউটারের মনিটর এর মাধ্যমে অথবা আলাদা একটি ডিভাইসে। 

এই ডিজিটাল কম্পিউটার গুলো সাধারণত গণিতের নীতির উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় এই হিসাব যন্ত্রটি। এটি যে কোন হিসাব এটি ‘০’ ও ‘১’ দিয়ে সম্পূর্ণ করে দেয়। 

আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে ?

আধুনিক কম্পিউটারের জনক হচ্ছে চার্লস ব্যাবেজ। চার্লস ব্যাবেজ বর্তমান সময়ের আধুনিক কম্পিউটারের জনক। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এবং স্কুল কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন টি দেখা যায় আশা করি এখন থেকে আপনারা খুব সহজে প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারবেন।

কম্পিউটার কত প্রকার ও কি কি?

আমাদের অনেকের ধারণা কম্পিউটার এক প্রকার। আসলে আমাদের এই ধারণাটি ভুল। কম্পিউটারের বিভিন্ন আকার এবং কম্পিউটারের গতি ক্ষমতা অনুসারে সাধারণত কম্পিউটার চার প্রকার হয়ে থাকে।

  • মেইনফ্রেম কম্পিউটার।
  • মিনি কম্পিউটার।
  • সুপার কম্পিউটার।
  • মাইক্রো কম্পিউটার (পি,সি)।

আমরা সাধারণত বর্তমানে যে কম্পিউটারে গুলো দেখি এ কম্পিউটারগুলোর কাজ একরকম নয় বিভিন্ন কম্পিউটারের কাজের ধরন একেক রকম কাজের ধরন অনুযায়ী সাধারণত কম্পিউটার হচ্ছে তিন রকম।

  • ডিজিটাল কম্পিউটার।
  • এনালগ কম্পিউটার। 
  • হাইব্রিড কম্পিউটার।

কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে?

কম্পিউটার সাধারণত দুইটি উপায় বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে থাকে তা হচ্ছে হার্ডওয়ার ও সফটওয়ার। এর আবার দুটি দিক রয়েছে আউটপুট ইনপুট ডিভাইস। 

কম্পিউটারকে যখন আমরা কোন কাজ করার জন্য নির্দেশ দেই তখন কম্পিউটার সেটাকে ইনপুট করে ইনপুট করার পর ইনপুট কৃত ডাটাগুলো প্রসেসিং করে প্রসেসিং করার পর সেই ডাটাগুলো আমাদের সামনে ডিসপ্লে করে 

তখন আমরা মনিটর এর সাহায্যে সেই ডাটাগুলো দেখতে পাই।ডিজিটাল কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজ। বর্তমানে সময় যত যাচ্ছে এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কম্পিউটার আবিষ্কার এর ইতিহাস

এক সময় মানুষ বিভিন্ন গণনা করার জন্য বড় বড় হিসেব-নিকেশের জন্য ঝিনুক নুড়ি পাথর ও দড়িতে গির দিয়ে তারা তাদের বিভিন্ন হিসাব নিকাশ গণনা করতে কিন্তু অনেক সময় ছোট-বড় অনেক হিসাব ভুল হয়ে যেত। তাই তারা তাদের হিসাব নিকাশ এর জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করতেন। 

সেই ধারাবাহিকতায় তারা আবিষ্কার করে ফেলে গণনাকারী যন্ত্র হিসেবে অ্যাবাকাস নামক একটি যন্ত্র।যে যন্ত্র কে ইতিহাসের সর্বপ্রথম হিসাব নিকাশ গণনাকারী যন্ত্র হিসেবে ধরা হয়। 

ইতিহাসের সর্বপ্রথম গণনাকারী যন্ত্র আবিষ্কার হয় ব্যাবিলনে (খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০সালে) পরবর্তী সময়ে এই যন্ত্রটির উপর ভিত্তি করে হিসাব নিকাশের জন্য ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করা হয়।

এরপর আস্তে আস্তে উনিশ শতকের দিকে বিশেষজ্ঞরা একটি আধুনিক যন্ত্রের আবিষ্কারের কথা মাথায় আনে যে যন্ত্রটি কেবলমাত্র হিসাব-নিকাশের কাজে ব্যবহার করা হবে। এই ধারণাটি সর্বপ্রথম প্রচার করে থাকেন স্যার চার্লস ব্যাবেজ। 

চার্লস ব্যাবেজ যন্ত্রটির নাম দেন ডিফারেন্স ইঞ্জিন। চার্লস ব্যাবেজ এই ডিফারেন্স ইঞ্জিন নিয়ে যখন কাজ করছিলেন তখন তিনি আরো একটি অ্যানালিটিক্যাল যন্ত্র নামে আরও একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন। কিন্তু চার্লস ব্যাবেজ অর্থের অভাবে সেই যন্ত্রটি আবিষ্কার পুরোপুরি কাজ শেষ করতে পারেননি। 
সাধারণত কম্পিউটারের দ্রুত বিকাশ ঘটতে থাকে মাইক্রোপ্রসেসর উদ্ভাবন হওয়ার পর থেকে। বর্তমান সময়ে এর বিকাশ খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সময়ের বাজারে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কম মূল্যের কম্পিউটার এবং পিসি। 

সেই সাথে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে কম্পিউটার ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত পরিষেবার। যে সকল ইলেকট্রনিক্স পণ্য কম্পিউটার ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত সে সকল পণ্য খুব দ্রুত এখন ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

কম্পিউটার শিক্ষা প্রদান করার লক্ষ্যে গঠিত হচ্ছে ইনফরমেশন টেকনোলজি এবং আইটি সেক্টর এ সেক্টরগুলোর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে আইটি বাজার বিরাট অংশ দখল করে রয়েছে। 

যখন থেকে ইন্টেল উদ্ভাবন হয় তখন থেকে বাজারে আসতে শুরু করেছে উন্নত মানের মাইক্রোপ্রসেসর এর কম্পিউটার সমূহ। তখন থেকে কম্পিউটারসমূহ গুলোর ক্ষমতা ও আকৃতির এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা দেয়।

এর পর একের পর এক উদ্ভাবিত হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোপ্রসেসর এবং তৈরি হতে হচ্ছে শক্তিশালী pc  আই.বি.এম কোম্পানি প্রথম থেকে (IBM compatible computer) তৈরির ক্ষেত্রে কোনো বাধা-নিষেধ না রাখায় এ ধরনের কম্পিউটারগুলির মূল্য ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে এবং এর ব্যবহারও ক্রমাগত হারে বাড়ছে। একই সময় আই.বি.এম কোম্পানির পাশাপাশি (Apple Computer Inc) তাদের উদ্ভাবিত  (Apple-Macintosh) কম্পিউটার বাজারে ছাড়ে। 

কিন্তু কোম্পানিটি তাদের কমপ্যাটিবল কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রে কোনোরূপ উদারতা প্রদর্শন না করায় ম্যাকিনটোশ কম্পিউটারের মূল্য থেকে যায় অত্যধিক বেশি, যার ফলে এটি তেমন জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে নি।

কম্পিউটার কি কি কাজে ব্যাবহার হয়?

বর্তমান সময়ে কম্পিউটারের ব্যবহার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে এখন যেকোন কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটার কোন কোন কাজে ব্যবহার করা হয় সেই বিষয়ে বলা থেকে কম্পিউটার কোন কোন কাজে ব্যবহার করা হয় না সেটা বলা অনেক সহজ হবে কারণ কম্পিউটারের ব্যবহার এতটাই বেড়ে গেছে এখন সব কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। 

কম্পিউটারের জনক কে এর উত্তর চার্লস ব্যাবেজ আধুনিক কম্পিউটার আবিষ্কার করার পর থেকে এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। চলুন জেনে নেয়া যাক কম্পিউটার কোন কোন কাজ গুলো তে বেশি ব্যবহার করা হয়।

  • ওয়ার্ড প্রসেসিং বা লেখা-লেখির জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • অফিসের যাবতীয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখন কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়েই চলেছে এক সময় অফিসের যাবতীয় কাজে খাতা কলম ব্যবহার করা হতো।
  • চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে। বর্তমানে একহাত গুলোতে অনেক বেশি কম্পিউটারের ব্যবহার হচ্ছে একসময় এগুলোতে খাতা ও কলম এর বেশি ব্যবহৃত বর্তমানে কম্পিউটারের বেশি ব্যবহার হচ্ছে।
  • গবেষণা মুলক কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার।
  • একস্থান থেকে অন্যস্থানে সংবাদ প্রেরণের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হতো না এটি ব্যবহার করা হতো।
  • বিনোদনের জন্য যেমন ,টিভি দেখা, ভিডিও দেখা, গান বাজানো, উপস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যাবহার হয়।
  • যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এর জন্য
  • শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের কাজে 
  • মুদ্রণশিল্পে প্রকাশনার কাজে
  • আধুনিক সামরিক বাহিনীতে নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে কম্পিউটার ব্যাবহার হয় 
  • ব্যাংকিংয়ের কাজে
  • ব্যবসায়-বাণিজ্যের কাজে 
  • কল-কারখানার কাজে
  •  প্রকাশনার কাজে 
  • সংবাদপত্র 
  • টেলি কমিউনিকেশনের কাজে 
  • চিকিৎসাবিজ্ঞানে
  • মহাকাশ গবেষণার কাজে 
  • বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ 
  •  শিক্ষার কাজে 
  • আবহাওয়ার কাজে 

আসলে আমরা এখানে কম্পিউটারের ব্যবহার কোন কোন কাজে হয় তা লিখা সম্ভব নয় বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটারের ব্যবহার ছাড়া অচল এখন কম্পিউটারের ব্যবহার হয়।

আমাদের শেষ কথা

আমরা যদি কম্পিউটার সম্পর্কে সব কিছু লিখতে চাই আমাদের এরকম 20-25 টা আর্টিকেল লিখতে হবে। কারণ বর্তমান বিশ্ব কম্পিউটার ছাড়া অচল তাই সব কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

আজকে আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করছি আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে এবং কম্পিউটার কি তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার। আশা করি আপনারা এই দুটি বিষয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত জানতে পেরেছেন। আমাদের পুরো আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url